News update
  • ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী     |     
  • পুলিশসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দ্রুত জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে হবে- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী      |     
  • টেকসই অবকাঠামো ও পেশাদারিত্বের অঙ্গীকার      |     
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পসমূহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ নৌপরিবহন মন্ত্রীর     |     
  • শিক্ষা খাতে জবাবদিহিতা, নিয়ন্ত্রণ ও যুগোপযোগী সংস্কারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার     |     
খবর 2026-02-21, 9:09pm

ভাষা দিবসে চবিতে জোরালো দাবি: সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চাই

unnamed-4af52202f77beb11ba59ce2056aa78781771686591.jpg


শুভ দেব চাকমা: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের চেতনা সামনে রেখে আদিবাসী জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এ কর্মসূচির আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল ভাষাগত অধিকার রক্ষার ঐতিহাসিক সংগ্রাম। সেই চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা বলেন, ভাষার প্রশ্নে বাঙালি জাতি যেমন রক্ত দিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, তেমনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দেশের সকল জাতিসত্তার ভাষা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে মর্যাদা দেওয়া।

পিসিপি চবি শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিশন চাকমার সঞ্চালনায় এবং সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবীর, পিসিপি চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আদিবাসী জাতিসত্তাসমূহের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবিধানে তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্পষ্ট স্বীকৃতি না থাকায় তারা নীতিগতভাবে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তার মাতৃভাষা। মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত না হলে শিশুর মানসিক বিকাশ, আত্মপরিচয় ও শিক্ষাগত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আদিবাসীদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুর দাবি জানান তারা।

এ সময় বক্তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি, ভূমি ও মানবাধিকারসংক্রান্ত চলমান সংকট নিরসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মানববন্ধনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।