
মো: আশফিকুর রহমান সরকার, হাবিপ্রবি : যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা’র নেতৃত্বে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি র্যালি প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। র্যালি শেষে জুলাই শহীদগণের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আবু হাসান, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস.এম. এমদাদুল হাসান। অত:পর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ, ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, সাদা দল এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হাবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। র্যালি ও শ্রদ্ধাজ্ঞলি নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদীয় ডীনবৃন্দ, পরিচালকবৃন্দ, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, লাইব্রেরিয়ান, হল সুপারবৃন্দ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শহীদ নূর হোসেন হল এর হল সুপার প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ।
র্যালি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দিবসটি উপলক্ষ্যে হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার সহকারী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দীন।বাণীতে উপাচার্য ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যূত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল বীর শহীদকে গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। এছাড়াও সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন রংপুর বেগম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী, বীরত্ব ও সাহসের প্রতিক ‘শহীদ আবু সাঈদ’কে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের নির্দেশে পুলিশের বুলেটে প্রথম যাঁর বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শহীদ মীর মুগ্ধসহ আন্দোলনে শাহাদাৎ বরণকারী সেসকল শহীদদেরকে- যাঁদের আত্মত্যাগ জাতির বিবেককে বিশেষভাবে জাগ্রত করেছে এবং দেশের তরুণ সমাজের সাহস, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়বোধের চেতনায় এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে অন্যায়, জুলুম-নির্যাতন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুগে যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায় ও সত্যের পথে চলার প্রেরণা জোগাবে।
উপাচার্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার সঙ্গে স্মরণ করেন সেসব সংগ্রামী মানুষকে যাঁরা মৃত্যু অবধারিত জেনেও নিজেদের জীবনবাজি রেখে গণঅভ্যূত্থানে অংশগ্রহণ করে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন; মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তিনি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য, সুসাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কামনা করেন। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের শিশু-কিশোর-যুবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং দিনমজুরসহ সকলের সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতি তিনি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান| যাঁদের সীমাহীন ত্যাগ ও দৃঢ় প্রত্যয় আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই শহীদ দিবস কেবল একটি শোকের দিন নয়; বরং এটি জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের আত্মত্যাগ, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পূরণে শপথ নেওয়ার দিন। এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যত বাধাই আসুক জাতির প্রয়োজনে ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না; অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আত্মোৎসর্গই ইতিহাসকে নতুন পথ দেখায়। তাই, এ দিনে আমাদের প্রিয় প্রাঙ্গণ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সকলের প্রতি আমার একান্ত আহবান আসুন, জুলাই শহীদদের মহান আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে সততা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে একটি উন্নত, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখি। পাশাপাশি, সকল বিভেদ, হিংসা-বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতাকে পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করি।
এছাড়াও বাদ যোহর সকল শহীদগণের স্মরণে হাবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।